২৯ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৬:০০ AM
কানআন থেকে গাজাপর্ব ৮: হযরত ইউশা ইবনে নুন (আ.) এবং পবিত্র ভূমিতে বনি ইসরাইলের ঐতিহাসিক প্রবেশ: জর্ডান নদী পার থেকে জেরিকোর দুর্গপ্রাচীর

পর্ব ৮: হযরত ইউশা ইবনে নুন (আ.) এবং পবিত্র ভূমিতে বনি ইসরাইলের ঐতিহাসিক প্রবেশ: জর্ডান নদী পার থেকে জেরিকোর দুর্গপ্রাচীর
"আর যখন আমরা বললাম: প্রবেশ করো এই জনপদে এবং তা থেকে যেখানে ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দ্যে আহার করো, আর নগরফটকে নতশিরে সিজদারত অবস্থায় প্রবেশ করো এবং বলো: 'হিত্তাতুন' (আমাদের ক্ষমা করুন); আমরা তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করব এবং সৎকর্মশীলদের আরও বৃদ্ধি করে দেব।"
— আল-কুরআন, সূরা আল-বাকারা: ৫৮
জর্ডান নদীর পূর্ব তীরে মোয়াবের সমভূমিতে যখন বনি ইসরাইলের তাঁবু শিবির বিস্তৃত ছিল, তখন তাদের অন্তরে মিশ্রিত হচ্ছিল গভীর শোক ও ঐতিহাসিক প্রত্যাশা। মহান পয়গম্বর হযরত মুসা (আ.) জাবাল নিবো পর্বতের চূড়া থেকে প্রতিশ্রুত পবিত্র কানআন ভূমির দিগন্ত অবলোকন করে ওফাত লাভ করেছিলেন। চার দশক ধরে সিনাইয়ের রুক্ষ মরুপ্রান্তরে এবং তিহ ময়দানে যে যাযাবর কাফেলা আল্লাহর অনুগ্রহে টিকে ছিল, তাদের সেই আদি মিশরীয় প্রজন্ম ততদিনে মরুভূমির বালুকায় বিলীন হয়ে গেছে। তাদের স্থানে আবির্ভূত হয়েছে মরুভূমির আলো বাতাসে গড়ে ওঠা এক নতুন, অকুতোভয় এবং সুশৃঙ্খল মুক্ত প্রজন্ম। এই নবীন বাহিনীর সামনে তখন দাঁড়িয়ে ছিলেন মুসা (আ.)-এর আজীবন সহযোগী ও অনুগত উত্তরসূরি হযরত ইউশা ইবনে নুন (আ.)।
ইউশা ইবনে নুনের সামনে তখন উপস্থিত হয়েছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম সুদূরপ্রসারী ভূরাজনৈতিক দায়িত্ব: পূর্বপুরুষ ইবরাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুব (আ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত কানআনে পুনরায় তাওহিদবাদী সমাজ ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু এই পবিত্র প্রবেশ কোনো সাধারণ অভিযান ছিল না। জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থান করছিল সুদৃঢ় নগররাষ্ট্র ব্যবস্থা, দুর্ভেদ্য দুর্গপ্রাচীর এবং উন্নত ব্রোঞ্জ ও লৌহ যুগের যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত কানআনীয় সম্প্রদায়। তাদের প্রবেশের প্রধান ভৌগোলিক প্রতিবন্ধক হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল বিশ্বের প্রাচীনতম প্রাচীরবেষ্টিত সুরক্ষিত দুর্গনগরী জেরিকো।
শারীরিক প্রস্তুতির চেয়েও বড় পরীক্ষা ছিল আত্মিক ও নৈতিক শৃঙ্খলার। লোহিত সাগরের অলৌকিক নিদর্শন দেখেও পূর্ববর্তী প্রজন্ম যে দাসমনোবৃত্তি ও শির্কের মোহে বারবার স্খলিত হয়েছিল, নতুন প্রজন্ম কি সেই ভুল থেকে মুক্ত থাকতে পারবে? কীভাবে জর্ডান নদীর উত্তাল জলরাশি অলৌকিকভাবে শুকিয়ে তাদের জন্য পথ করে দিয়েছিল, কীভাবে প্রাচীরবেষ্টিত জেরিকোর পতন ঘটেছিল এবং কীভাবে নগরফটকে বিনম্র সিজদায় প্রবেশের ঐশী পরীক্ষা বনি ইসরাইলের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করেছিল, তা বিশ্লেষণ করাই এই পর্বের মূল ঐতিহাসিক পাঠ।
অধ্যায় ১: নেতৃত্ব হস্তান্তর, শিট্টিমের শিবির ও জর্ডান নদী অতিক্রমের প্রস্তুতি
হযরত মুসা (আ.)-এর ওফাতের পর বনি ইসরাইলের নেতৃত্বের ভার এমন একজনের ওপর অর্পিত হয়েছিল, যাঁর সমগ্র জীবন ছিল আনুগত্য, সামরিক প্রজ্ঞা ও ঐশী নিষ্ঠার অনন্য সমন্বয়। হযরত ইউশা ইবনে নুন ছিলেন হযরত ইউসুফ (আ.)-এর পুত্র এফ্রয়িমের বংশধর, এক তেজস্বী ও ধর্মপ্রাণ পুরুষ। চল্লিশ বছর পূর্বে সিনাইয়ের রেফিদিম প্রান্তরে আমালেকীয় যাযাবররা আক্রমণ চালালে মুসা (আ.) তরুণ ইউশাকেই প্রথম সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে কাদেশ বারনিয়া থেকে কানআন অনুসন্ধানে প্রেরিত বারোজন দলপতির মধ্যে কেবল ইউশা এবং কালিব ইবনে ইউফান্না শত্রুর বিশালতা দেখে ভীত না হয়ে তাওহিদের ওপর ভরসা রেখে নগরফটক দিয়ে প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই অবিচল বিশ্বাসের পুরস্কার হিসেবেই আল্লাহ তাআলা তাঁকে মুসা (আ.)-এর প্রকৃত উত্তরসূরি এবং বনি ইসরাইলের প্রথম বিজয়ী সেনাপতির মর্যাদায় ভূষিত করেন।
মোয়াব উপত্যকার শিট্টিম (Abel-Shittim) নামক স্থানে শিবির স্থাপন করে ইউশা ইবনে নুন তাঁর বাহিনীকে কানআন অভিযানের জন্য সুবিন্যস্ত করেন। জর্ডান নদী অতিক্রম করার পূর্বে শত্রুর শক্তি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যাচাই করা ছিল কৌশলগতভাবে অপরিহার্য। ইউশা ইবনে নুন দুইজন বিশ্বস্ত প্রতিনিধিকে গোপনে জর্ডান নদী পার হয়ে জেরিকো নগরীতে প্রেরণ করেন। জেরিকো ছিল জর্ডান উপত্যকার প্রধান ভৌগোলিক প্রবেশদ্বার; এই নগরীকে নিয়ন্ত্রণ না করে কানআনের কেন্দ্রীয় পাহাড়ি অঞ্চলে কিংবা ভবিষ্যৎ জেরুসালেমের অভিমুখে অগ্রসর হওয়া সামরিকভাবে ছিল অসম্ভব। দুই ইসরাইলি প্রতিনিধি রাতের আঁধারে জেরিকোর নগরপ্রাচীরের ওপর নির্মিত একটি গৃহে আশ্রয় গ্রহণ করেন, যার স্বত্বাধিকারী ছিলেন রাহাব নাম্নী এক স্থানীয় নারী।
রাহাব দীর্ঘকাল ধরে মরুভূমিতে বনি ইসরাইলের ওপর প্রদর্শিত ঐশী সাহায্য ও লোহিত সাগর পারাপারের খবর শুনেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে কানআনীয় পৌত্তলিক সমাজের দিন শেষ হয়ে এসেছে এবং এই ভূমির প্রকৃত মালিকানা আসমান ও জমিনের স্রষ্টার। যখন জেরিকোর রাজা এই আগন্তুকদের সন্ধান পেয়ে সৈন্য পাঠায়, তখন রাহাব নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদের শণগাছের তন্তুর নিচে তাদের লুকিয়ে রাখেন। সৈন্যদের ভুল পথে তাড়িয়ে দিয়ে তিনি প্রতিনিধিদের কাছে প্রতিশ্রুতি চান যে শহর বিজিত হলে তাঁর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিনিধিরা তাঁকে নির্দেশ দেন নগরপ্রাচীরে একটি লাল রশি ঝুলিয়ে রাখতে, যাতে অভিযানের সময় সেই গৃহটি সুরক্ষিত থাকে।
গোপন অনুসন্ধান শেষে প্রতিনিধিরা নিরাপদে শিট্টিমের মূল শিবিরে ফিরে আসেন। তাঁরা ইউশা ইবনে নুনকে জানান যে কানআনের অধিবাসীরা কোনো অপ্রতিরোধ্য শক্তি নয়; বরং মরুভূমির কাফেলার আকস্মিক আবির্ভাবের খবর শুনে জেরিকোর রাজা ও জনগণের মনোবল ভেঙে পড়েছে এবং তারা প্রচণ্ড আতঙ্কিত। এই তথ্য লাভ করার পর ইউশা ইবনে নুন সমগ্র জাতিকে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে এই প্রস্তুতি নিছক অস্ত্রের ছিল না; ইউশা ঘোষণা করলেন আত্মিক পবিত্রতা অর্জনের নির্দেশ। বসন্তকালের শেষের দিকে যবের ফসল কাটার মৌসুমে লেবাননের বরফগলা পানিতে জর্ডান নদী কূল ছাপিয়ে তীব্র স্রোতে প্রবাহিত হচ্ছিল, যা সাধারণ নৌযান বা পদব্রজে পার হওয়া ছিল অসম্ভব এক ভৌগোলিক বাধা।
অধ্যায় ২: অলৌকিক নদী পারাপার, গিলগাল শিবির ও কানআনের প্রবেশদ্বার
জর্ডান নদী অতিক্রমের মুহূর্তটি ছিল বনি ইসরাইলের জন্য লোহিত সাগর পারাপারের চার দশক পরের এক সুশৃঙ্খল পুনরাবৃত্তি। তবে এই অভিযানের বিন্যাস ছিল অত্যন্ত সুসংহত ও আধ্যাত্মিক গাম্ভীর্যে পরিপূর্ণ। শিবিরের সর্বাগ্রে কোনো সাধারণ পদাতিক সেনাদল ছিল না; বরং অগ্রভাগে ছিলেন লেবি গোত্রের কহাতীয় পুরোহিতগণ, যাঁদের কাঁধে বহন করা হচ্ছিল পবিত্র চুক্তি সিন্দুক বা তাবুতুস সাকিনাহ (Ark of the Covenant)। এই সিন্দুকের ভেতরে সংরক্ষিত ছিল মুসা (আ.)-এর সেই মূল পাথুরে ফলকসমূহ, মান্নার বিশেষ পাত্র এবং হারুন (আ.)-এর লাঠি। সিন্দুকের পেছনে প্রায় দুই হাজার হাত দূরত্ব বজায় রেখে সুবিন্যস্ত কাতারে অগ্রসর হচ্ছিল বারোটি গোত্রের সুসংগঠিত জনসমষ্টি।
ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বিবরণ অনুসারে, চুক্তি সিন্দুক বহনকারী যাজকদের পা জর্ডান নদীর উপচে পড়া পানির কিনারায় স্পর্শ করা মাত্রই ঘটেছিল এক অবিস্মরণীয় অলৌকিক ঘটনা। উজান থেকে ধেয়ে আসা তীব্র জলপ্রবাহ উত্তর দিকে আদম (Adam) নামক প্রাচীন নগরের সন্নিকটে একটি অদৃশ্য বাঁধের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। আর নিম্নাঞ্চলের পানি দ্রুত মৃত সাগরের দিকে প্রবাহিত হয়ে মিলিয়ে গেল। সমগ্র নদীগর্ভ শুকিয়ে এক প্রশস্ত শুষ্ক রাজপথে রূপান্তরিত হলো। যাজকগণ চুক্তি সিন্দুক কাঁধে নিয়ে শুকিয়ে যাওয়া নদীগর্ভের মধ্যস্থলে অটলভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন, যতক্ষণ না সমগ্র বনি ইসরাইল নিরাপদে অপর তীরে পদার্পণ করল।
পশ্চিম তীরে পা রাখা মাত্রই ইউশা ইবনে নুন প্রতিটি গোত্র থেকে একজন করে বারোজন প্রতিনিধিকে নির্দেশ দিলেন নদীগর্ভ থেকে বারোটি বিশাল পাথর তুলে আনতে। জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরের প্রথম উন্মুক্ত সমভূমি গিলগালে (Gilgal) সেই পাথর দিয়ে একটি স্থায়ী স্মারক স্তম্ভ নির্মাণ করা হলো। এই স্মারকটি ছিল ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য এক ঐতিহাসিক সাক্ষ্য, যাতে যুগ যুগ ধরে মানুষ স্মরণ রাখে যে আল্লাহর কুদরতে উত্তাল জর্ডান নদী তাদের পূর্বপুরুষদের জন্য শুষ্ক মাটিতে পরিণত হয়েছিল।
গিলগালের প্রাথমিক শিবিরে দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা সম্পন্ন হয়। প্রথমত, দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে মরুভূমির রুক্ষ জীবনে জন্ম নেওয়া পুরুষদের খৎনা সম্পন্ন করে ইবরাহিমীয় মূল অঙ্গীকার পুনরুজ্জীবিত করা হয়। দ্বিতীয়ত, নিসান মাসের চতুর্দশ দিবসে তারা সেখানে প্রথমবার পবিত্র ভূমির মাটিতে ঐতিহাসিক নিস্তারপর্ব (Passover) উদযাপন করে। এর পরদিনই বিগত চার দশক ধরে মরুভূমিতে প্রতিদিন ভোরে যে জান্নাতি আহার 'মান্না' ঝরে পড়ত, তা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল। বনি ইসরাইল প্রথমবারের মতো কানআনের মাটির গম ও ফলমূলের স্বাভাবিক খাদ্য গ্রহণ করল। অলৌকিক লালনপালনের পর্ব শেষ হয়ে তাদের সামনে উন্মোচিত হলো স্বাধীন কর্ম ও ঐতিহাসিক সংগ্রামের পরিণত বাস্তবমুখী অধ্যায়।
| ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ও মাপকাঠি | লোহিত সাগর পারাপার (মুসা আ.-এর আমল) | জর্ডান নদী পারাপার (ইউশা আ.-এর আমল) |
|---|---|---|
| নেতৃত্বের ধরন ও প্রকৃতি | নবজাতক জনগোষ্ঠীর ত্রাতা ও মৌলিক আইনপ্রণেতা | প্রতিষ্ঠিত আইনের বাস্তবায়নকারী সেনাপতি ও সংগঠক |
| অনুসারীদের মানসিক গঠন | মিশরের দাসত্বে হীনমন্য, আতঙ্কিত ও পলায়নপর জনতা | মরুভূমির শৃঙ্খলায় লালিত নির্ভীক, আস্থাবান ও সুসংগঠিত সেনা |
| পারাপারের কৌশলগত লক্ষ্য | ফেরাউনের অত্যাচার থেকে পলায়ন ও মরুভূমিতে আশ্রয় | প্রতিশ্রুত পবিত্র ভূমিতে স্থায়ী সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রবেশ |
| আধ্যাত্মিক কেন্দ্রবিন্দু | মুসা (আ.)-এর হাতের লাঠির অলৌকিক আঘাত | তাবুতুস সাকিনাহ ও পুরোহিতদের নিয়মতান্ত্রিক অগ্রগমন |
| খাদ্য নিরাপত্তার রূপান্তর | মরুভূমির জন্য অলৌকিক মান্না ও সালওয়ার সূচনা | মান্না বন্ধ হয়ে কানআনের নিজস্ব মাটির ফসলের সূচনা |
এই তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে গিলগালের প্রবেশ কোনো যাযাবর আক্রমণ ছিল না; বরং তা ছিল একটি জাতিকে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের জন্য প্রস্তুত করার সুপরিকল্পিত ঐতিহাসিক উত্তরণ। গিলগাল থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে মরু মরূদ্যানের মাঝে দৃশ্যমান ছিল দুর্ভেদ্য জেরিকো নগরী, যার বিশাল দুর্গপ্রাচীর অবরুদ্ধ করে রেখেছিল কানআনের অন্তর্বর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে প্রবেশের প্রধান তোরণ।
অধ্যায় ৩: জেরিকো অবরোধ, দুর্গের পতন ও 'হিত্তাতুন'-এর ঐশী পরীক্ষা
জেরিকো, যাকে সেমেটিক ভাষায় 'আরীহা' বা সুবাসের নগরী বলা হতো, ছিল বিশ্বের প্রাচীনতম স্থায়ী সুরক্ষিত শহরগুলোর একটি। আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যে, বিশেষ করে তেল এস-সুলতান (Tell es-Sultan) ঢিবিতে উন্মোচিত ধ্বংসাবশেষ প্রমাণ করে যে প্রাচীন জেরিকো দুটি সমান্তরাল সুউচ্চ দুর্গপ্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। বহিঃপ্রাচীরটি ছিল পাথুরে ভিত্তির ওপর নির্মিত ইটের দেয়াল, আর তার পেছনে পাহাড়ের ঢালে দাঁড়িয়ে ছিল আরও উঁচু অভ্যন্তরীণ দুর্গপ্রাচীর। বনি ইসরাইলের আগমনের সংবাদে জেরিকোর সমস্ত প্রবেশদ্বার ভারী কাঠের কবাট ও ব্রোঞ্জের হুড়কা দিয়ে রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কোনো সাধারণ মই বা প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে এই দুর্গ জয় করা সামরিকভাবে ছিল প্রায় অসম্ভব।
ইউশা ইবনে নুন প্রচলিত দীর্ঘ অবরোধ যুদ্ধের বদলে আল্লাহর নির্দেশিত এক আধ্যাত্মিক কৌশল অবলম্বন করেন। পরপর ছয় দিন ধরে বনি ইসরাইলের সেনারা কোনো যুদ্ধধ্বনি না করে গভীর নীরবতায় নগরপ্রাচীরের চতুর্দিকে দিনে একবার করে প্রদক্ষিণ করত। তাদের সামনে থাকত চুক্তি সিন্দুক এবং সাতজন যাজক, যাঁদের হাতে ছিল মেষশৃঙ্গের তৈরি তূর্য (Shofar)। প্রাচীরের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বিভ্রান্ত জেরিকোবাসী অবলোকন করছিল এই নীরব গম্ভীর শোভাযাত্রা। সপ্তম দিনে প্রভাতের আলো ফুটতেই ইউশা সমগ্র বাহিনীকে প্রস্তুত করেন। সেদিন তারা নগরটিকে পরপর সাতবার প্রদক্ষিণ করে।
সপ্তম প্রদক্ষিণ সমাপ্ত হওয়ার পর ইউশা ইবনে নুন নির্দেশ দেন: চিৎকার করো, কারণ আল্লাহ তোমাদের এই নগর দান করেছেন। যাজকগণ তূর্যে তীব্র ধ্বনি তুললেন এবং সমগ্র বাহিনীর কণ্ঠ থেকে একযোগে উত্থিত হলো মহাকাব্যিক তাকবির ও বিজয়ধ্বনি। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বিবরণ অনুসারে, সেই প্রচণ্ড সম্মিলিত শব্দের কম্পনে ও ঐশী কুদরতে জেরিকোর বিশাল দুর্গপ্রাচীর ভিত্তিমূল থেকে কেঁপে ওঠে এবং মাটির সাথে ধসে পড়ে। সৈনিকরা সোজা উন্মুক্ত নগরীতে প্রবেশ করে এবং দুর্ভেদ্য জেরিকোর পতন ঘটে। চুক্তি অনুসারে লাল রশি চিহ্নিত ভবনে অবস্থানকারী রাহাব ও তাঁর পুরো পরিবারকে নিরাপদে রক্ষা করা হয়।
জেরিকো জয়ের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাইলের জন্য এক সুকঠিন আত্মিক পরীক্ষা নির্ধারণ করেছিলেন। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ৫৮ নম্বর আয়াতে এবং সূরা আল-আরাফের ১৬১ নম্বর আয়াতে এই ঘটনার বিশদ বিবরণ এসেছে। বিজয়ের আনন্দে মত্ত হয়ে বিজয়ীরা যাতে উদ্ধত না হয়ে ওঠে, সেজন্য আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছিলেন: যখন তোমরা নগরফটক দিয়ে প্রবেশ করবে, তখন নতশিরে সিজদারত অবস্থায় প্রবেশ করবে এবং মুখে উচ্চারণ করবে 'হিত্তাতুন' (যার অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদের ক্ষমা করুন)। আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে এই বিনয়ের বিনিময়ে অতীত অপরাধ ক্ষমা করা হবে এবং নেককারদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
কিন্তু কিছু মুনাফিক ও সুবিধাবাদীর হৃদয়ে সেই বিকৃত মানসিকতা তখনো সুপ্ত ছিল। তারা আল্লাহর করুণা ও মাগফিরাতের এই পবিত্র বাণীকে অবজ্ঞার সাথে বিকৃত করে উপহাস শুরু করল। সূরা আল-বাকারার ৫৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন: কিন্তু সীমালঙ্ঘনকারীরা সেই শব্দকে এমন এক শব্দ দিয়ে বদলে দিল যা তাদের বলা হয়নি। হাদিসের ব্যাখ্যায় এসেছে, তারা নতশিরে প্রবেশ করার বদলে মাটিতে হেঁচড়ে প্রবেশ করতে লাগল এবং 'হিত্তাতুন'-এর স্থলে ব্যাঙ্গাত্মক সুরে বলতে লাগল 'হব্বাতুন ফি শাঈরাহ' (অর্থাৎ শস্যদানা)। এই চরম অবাধ্যতা ও উপহাসের কারণে তাদের ওপর আসমানি শাস্তি হিসেবে ভয়াবহ মহামারি বা প্লেগ আপতিত হয়, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে বহু অবাধ্য ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে। এটি প্রমাণ করেছিল যে আল্লাহর দেওয়া বিজয়ে নৈতিক বিনম্রতা অক্ষুণ্ণ না রাখলে ঐশী গযব কতটা দ্রুত নেমে আসে।
অধ্যায় ৪: কানআনের পাহাড়ি অভিযান, সূর্যের গতি রোধের অলৌকিকতা ও ভূমি বণ্টন
জেরিকোর পতনের পর কানআনের কেন্দ্রীয় পাহাড়ি অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়। তবে প্রথম সংকট দেখা দেয় অদূরে অবস্থিত আই (Ai) নামক পাহাড়ি দুর্গে। জেরিকোর বিজয়ে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ব্যক্তিগত ভোগ নিষিদ্ধ ছিল এবং সবকিছু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করার নির্দেশ ছিল। কিন্তু আখান (Achan) নামক এক ব্যক্তি লোভের বশবর্তী হয়ে একটি মূল্যবান চাদর ও কিছু রৌপ্যমুদ্রা গোপনে নিজের তাঁবুতে পুঁতে রাখে। এই গোপন শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে আই নগরের বিরুদ্ধে প্রেরিত প্রাথমিক তিন হাজার সৈন্যের ক্ষুদ্র বাহিনী অপ্রত্যাশিত পরাজয় বরণ করে ফিরে আসে। ইউশা ইবনে নুন হতাশায় আল্লাহর দরবারে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। ঐশী নির্দেশে অপরাধীকে চিহ্নিত করে শাস্তি প্রদানের পর যখন বাহিনীর নৈতিক পবিত্রতা নিশ্চিত হলো, তখন দ্বিতীয় অভিযানে কৌশলগত ফাঁদ পেতে আই দুর্গ সম্পূর্ণরূপে জয় করা হয়।
জেরিকো ও আইয়ের পতনে কানআনের অন্যান্য শক্তিশালী নগররাষ্ট্রগুলোর মাঝে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে পাহাড়ি অঞ্চলের গিবিওন (Gibeon) নগরের চতুর হিব্বীয় অধিবাসীরা জীর্ণ বস্ত্র পরিধান করে এবং শুষ্ক রুটি সঙ্গে নিয়ে ইউশা ইবনে নুনের কাছে উপস্থিত হয়ে দাবি করে যে তারা সুদূর কোনো অচেনা দেশ থেকে এসেছে। বাহ্যিক চাতুরীতে বিভ্রান্ত হয়ে বনি ইসরাইলের নেতারা আল্লাহর নাম নিয়ে তাদের সাথে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেন। তিন দিন পর তাদের আসল পরিচয় প্রকাশিত হলেও দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে ইউশা তাদের ওপর আক্রমণ থেকে বিরত থাকেন।
গিবিওনের মতো পরাক্রমশালী নগর বনি ইসরাইলের বশ্যতা স্বীকার করায় দক্ষিণ কানআনের প্রধান শক্তিগুলো শঙ্কিত হয়ে পড়ে। জেরুসালেমের রাজা আদোনি-সেদেক (Adoni-zedek)-এর নেতৃত্বে হেবরন, জারমুথ, লাখিশ ও এগলোনের পাঁচ রাজা যৌথ সামরিক জোট গঠন করে গিবিওন আক্রমণ করে। গিবিওনবাসীরা দ্রুত ইউশার কাছে সাহায্যের আবেদন জানায়। গিলগাল থেকে সারা রাতব্যাপী দ্রুত পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে ইউশা ইবনে নুনের সেনাবাহিনী আকস্মিকভাবে সেই যৌথ বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইতিহাসের পাতায় এটি বেথ-হোরোনের ঐতিহাসিক যুদ্ধ (Battle of Beth-horon) নামে পরিচিত।
এই যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে উন্মোচিত হয়েছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম মহিমান্বিত অলৌকিক নিদর্শন। আমোরীয় জোটের সৈন্যরা যখন পরাজয় বরণ করে পালিয়ে যাচ্ছিল, তখন আকাশ থেকে তীব্র শিলাবৃষ্টি বর্ষিত হয়ে বহু শত্রুকে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু দিনটি ছিল শুক্রবার, আর সূর্যাস্তের সাথে সাথেই পবিত্র সাব্বাত (শনিবার) শুরু হতে যাচ্ছিল, যে সময়ে সমস্ত যুদ্ধ পরিচালনা তাওরাতের বিধান অনুসারে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। যদি সূর্য ডুবে যেত, তবে শত্রুসেনারা পাহাড়ি গিরিপথে পালিয়ে গিয়ে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেত।
ঠিক সেই সঙ্কটময় মুহূর্তে হযরত ইউশা ইবনে নুন আল্লাহর দরবারে কাতর প্রার্থনা করলেন। তিনি সূর্যের প্রতি আদেশ করলেন: হে সূর্য, তুমি গিবিওনের আকাশে স্থির হয়ে দাঁড়াও, আর হে চন্দ্র, তুমি আইয়্যালোন উপত্যকায় থেমে থাকো। সহিহ বুখারির ৩১২৪ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: হযরত ইউশা ইবনে নুন যখন পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়ের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করছিলেন, তখন ছাড়া কোনো মানুষের জন্য কখনো সূর্যের গতি রোধ করা হয়নি। তিনি সূর্যকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন: তুমিও আল্লাহর আজ্ঞাবহ, আমিও তাঁর আজ্ঞাবহ; হে আল্লাহ, সূর্যকে আমাদের জন্য স্থির রাখুন। আল্লাহর কুদরতে সূর্যের গতি আকাশে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় থেমে রইল, যতক্ষণ না শত্রুপক্ষ সম্পূর্ণরূপে পর্যুদস্ত হলো এবং তাওহিদের বিজয় নিশ্চিত হলো। পরাজিত রাজাদের মাক্কিদাহর গুহায় আটক করে কানআনের দক্ষিণ অঞ্চলের প্রতিরোধ সমাপ্ত করা হয়।
দক্ষিণ কানআনের বিজয়ের পর ইউশা ইবনে নুন উত্তর গ্যালিলির হাজোর (Hazor) দুর্গ ধ্বংস করে কানআনের সামগ্রিক প্রতিরোধ ভেঙে দেন। সেখানে রাজা জাবিনের নেতৃত্বাধীন লোহার রথবাহিনী সম্পূর্ণরূপে পরাজিত হয়। ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে কানআনের সিংহভাগ পাহাড়ি অঞ্চল তাওহিদবাদী শাসনের অধীনে আসে। অভিযান সমাপ্তির পর ইউশা ইবনে নুন কানআনের ভৌগোলিক সীমানা বনি ইসরাইলের বারোটি গোত্রের মাঝে সুষমভাবে বণ্টন করেন। শিলোহ (Shiloh) নামক স্থানে পবিত্র তাবুতুস সাকিনাহ ও উপাসনা তাঁবু স্থাপন করে তাকে প্রথম কেন্দ্রীয় ধর্মীয় রাজধানীতে রূপান্তর করা হয়। একশত দশ বছর বয়সে উপনীত হয়ে মহৎ পয়গম্বর হযরত ইউশা ইবনে নুন তিমনাথ-সেরাহ নামক স্থানে তাওরাতের ওপর অবিচল থাকার অন্তিম নির্দেশ প্রদান করে শান্তিতে ওফাত লাভ করেন।
আমরা কী শিখলাম?
১. দাসমনোবৃত্তি থেকে মুক্তির বাস্তবায়ন: ভৌগোলিক মুক্তি কখনোই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় যতক্ষণ না আত্মিক শৃঙ্খলা ও বীরত্ব অর্জিত হয়; মরুভূমিতে গড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মই কেবল জর্ডান অতিক্রমের যোগ্যতা অর্জন করেছিল।
২. ঐশী নিয়মের প্রতি অবিচল আনুগত্য: জর্ডান নদীর অলৌকিক বিভাজন বা জেরিকোর প্রাচীর পতন কোনো একক সামরিক অস্ত্রের জোরে ঘটেনি; বরং তা ছিল চুক্তি সিন্দুক ও আল্লাহর আদেশের প্রতি নিখুঁত আত্মসমর্পণের ফল।
৩. বিজয়ের মুহূর্তে বিনম্রতার পরীক্ষা: যেকোনো মহৎ রাজনৈতিক ও সামরিক সাফল্যে অহংকার ও বিদ্রূপ ধ্বংস ডেকে আনে; নগরফটকে 'হিত্তাতুন' বলার শিক্ষা প্রমাণ করে যে বিজয়ে শোকরগোযারি ও বিনয়ই প্রধানতম শর্ত।
৪. সম্পদের মোহ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ভয়াবহতা: ব্যক্তিগত লোভ ও গোপন আত্মসাৎ সমগ্র বাহিনীর ওপর পরাজয় ডেকে আনতে পারে, যা আই নগরের প্রাথমিক বিপর্যয়ে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছিল।
৫. সত্যের সমর্থনে প্রকৃতির ঐশী বশ্যতা: যখন নেতৃত্ব ও সেনাবাহিনী একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত হয়, তখন স্বয়ং সূর্য ও চন্দ্রের মতো মহাজাগতিক শক্তিও সত্যের বিজয়ে সহায়ক হয়ে ওঠে।
উপসংহার
হযরত ইউশা ইবনে নুন (আ.)-এর নেতৃত্বে পবিত্র ভূমিতে বনি ইসরাইলের ঐতিহাসিক প্রবেশ ছিল ফিলিস্তিনের প্রাচীন ইতিহাসে এক বিশাল ও সুদূরপ্রসারী যুগসন্ধিক্ষণ। চারশত বছরের মিশরীয় দাসত্ব এবং চল্লিশ বছরের তিহ প্রান্তরের কঠিন মরু নির্বাসনের পর এই প্রথম একটি যাযাবর শরণার্থী জনগোষ্ঠী স্বাধীন ও সার্বভৌম তাওহিদভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সমাজের গোড়াপত্তন করতে সক্ষম হয়েছিল। জর্ডান নদী পার হয়ে জেরিকোর প্রাচীন দুর্গপ্রাচীর অতিক্রম করা কেবল কোনো সামরিক বিজয় ছিল না; তা ছিল পিতা ইবরাহিম ও ইয়াকুবের স্মৃতিবিজড়িত কানআনে ঐশী তাওহিদ পুনরুজ্জীবনের এক মহিমান্বিত যাত্রা।
এই বিজয়ের মূল চালিকাশক্তি ছিল নতুন প্রজন্মের নৈতিক বিশুদ্ধতা এবং ইউশা ইবনে নুনের অনুপম সামরিক ও আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব। কিন্তু কানআনের উর্বর ভূমিতে স্থায়ী বসতি স্থাপনের সাথে সাথেই তাদের সামনে আবির্ভূত হতে শুরু করে নতুনতর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকট। সমকালীন স্থানীয় কানআনীয়দের মূর্তিপূজা, প্রতিবেশী শক্তির সাথে আপসকামী প্রবণতা এবং একতাবদ্ধ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাব পরবর্তীতে বনি ইসরাইলকে এক চরম ঐতিহাসিক টানাপোড়েনের মুখে নিক্ষেপ করে।
কীভাবে ইউশা ইবনে নুনের তিরোধানের পর বনি ইসরাইল এক তীব্র নেতৃত্বহীনতায় নিমজ্জিত হয়েছিল, কীভাবে দীর্ঘকাল ধরে চলেছিল বিচারকদের যুগ (Era of Judges), এবং কীভাবে এজিয়ান সাগর থেকে আগত উন্নত নৌযোদ্ধা ফিলিস্টাইনদের সাথে ঐতিহাসিক সংঘর্ষ ফিলিস্তিনের প্রাচীন ভূরাজনীতিকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল, সেই নাটকীয় পরিক্রমা উন্মোচিত হবে সিরিজের পরবর্তী পর্বে।
নিজেকে যাচাই করুন
এই লেখার কুইজ
ঐতিহাসিক বংশলতিকা অনুসারে হযরত ইউশা ইবনে নুন বনি ইসরাইলের বারোটি গোত্রের মধ্যে কোন গোত্রের প্রধান ও প্রতিনিধি ছিলেন?
জর্ডান নদী পার হওয়ার পূর্বে কানআনের প্রতিরক্ষা ও ভৌগোলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ইউশা (আ.) কোন প্রাচীন নগরীতে দুই প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন?
জর্ডান নদী পারাপারের অলৌকিক মুহূর্তে নদীর শুষ্ক গর্ভে যাজকগণ কোন পবিত্র নিদর্শন কাঁধে নিয়ে সমগ্র কাফেলা পার না হওয়া পর্যন্ত অবিচল দাঁড়িয়ে ছিলেন?
জর্ডান নদী পার হয়ে পশ্চিম তীরে গিলগাল সমভূমিতে পদার্পণের পর বনি ইসরাইলদের অলৌকিক কোন খাদ্য সরবরাহ চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল?
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ৫৮ আয়াত অনুসারে জেরিকোর নগরফটকে প্রবেশের সময় বনি ইসরাইলকে বিনম্র চিত্তে কোন শব্দ উচ্চারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল?
জেরিকোর বিজয়ের পর আই (Ai) দুর্গের প্রাথমিক অভিযানে বনি ইসরাইলের ক্ষণস্থায়ী পরাজয়ের কারণ কী ছিল?
গিবিওনের প্রান্তরে আমোরীয় পাঁচ রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধে শুক্রবার সূর্যাস্তের পূর্বে জয় নিশ্চিত করতে ইউশা (আ.)-এর দোয়ায় কোন অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল?
কানআনে বনি ইসরাইলের বারোটি গোত্রের মাঝে ভূমি বণ্টনের পর কোন স্থানে চুক্তি সিন্দুক ও উপাসনা তাঁবু স্থাপন করে প্রথম কেন্দ্রীয় ধর্মীয় রাজধানী প্রতিষ্ঠা করা হয়?
এই বিষয়ের কুইজ চ্যালেঞ্জ
কানআন থেকে গাজা কুইজে যান